Header Ads

Header ADS

বিজ্ঞানের সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা

বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা
বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা

বিজ্ঞানের সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা –  কোন কিছুর ফলাফল বের করার জন্য বিজ্ঞানিদের অবশ্যই সেই বিষয়টির উপরে পরিক্ষা চালাতে হয়। তবে আমাদের পৃথিবীর কিছু বিজ্ঞানিরা এমন অদ্ভুত কিছু এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিল। যার পরে তাদেরকে সেই পরিক্ষা না চালানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।  

অবশ্য এই সকল পরিক্ষার যে মূল উদ্দেশ্য ছিল তা হচ্ছে নতুন কিছু উদ্ভাবন। কিন্তু দিন শেষে সেই সকল বিজ্ঞানিদের পুরস্কৃত করা দূরে থাক তাদের মধ্যে অনেককে ভোগ করতে হয়েছিল বিভিন্ন মেয়াদের সাজা।

বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত এমন কিছু পরিক্ষা হচ্ছে –

আত্নার ওজন মাপার পরিক্ষা – 

১৯০৭ সালে ড. ডুনকান ম্যাগডোগাল নামে একজন বিজ্ঞানি আত্নার ওজন পরিক্ষা করতে চাইলেন। যে কারনে ডুনকান পাঁচজন মুমূর্ষু রোগীর ব্যাবহার করলেন যাদের মৃত্যু খুবি শিগরই অবধারিত ছিল। ডুনকান সেই পাঁচজন রোগিকে একটি ওজন মাপা যন্ত্রের উপরে রাখলেন এবং পর্যবেক্ষন করতে লাগনেন মৃত্যুর আগে এবং পরে তাদের শরীরের ওজনের কতটা ব্যাতিক্রম দেখাযায়।

এ ক্ষেত্রে প্রথম রোগির মারা যাবার পরে সেখানে ২১ গ্রাম কম ওজন লক্ষ্য করা যায়। তবে দ্বিতীয় রোগির মৃত্যুর পরে তার ওজন কিছুটা কমলেও কিছুটা সময় পরে দেখ যায় তা আবার আগের মত দেখাচ্ছে।

বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা
বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা / ছবিতে মৃত ব্যাক্তি ওজন মাপা হচ্ছে

এর পরের দুজন রোগিদের ক্ষেত্রেও তারা মারা যাবার পরে তাদের শরীরের কিছুটা ওজন কম লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কয়েক মিনিট বাদে দেখা যায় সেই দুইজন লোকের মৃত্য শরীরের ওজন আরো বেরে গিয়েছে।

সর্বোশেষ যেই লোকটি ছিল, মৃত্যুর এক মিনিট পরে তার ওজন ২৮ গ্রাম কমে গিয়েছিল। পরিক্ষায় সকলেরি ভিন্ন ধরনের ওজন থাকায় আত্নার সঠিক ওজন ড. ডুনকানের পক্ষে বের করা তখন সম্ভব হয়নি।

তবে তিনি একটি বিষয় পরিক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন আর সেটি হচ্ছে মানুষের মৃত্যুর পরে শরীরের ভেতরে অনেক পরিবর্তন দেখা দেয়। অবশ্য যখন স্থানিয় সরকার এই বিষয়টি যানতে পেরেছিল। তখন একে মানব অধিকার লংঘন সামিল দেখিয়ে এই এক্সপেরিমেন্ট করা বন্ধ করে দেয়।

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার চেষ্টা – 

১৯৩৪ সালে আমেরিকায় এমন আরেকটি অদ্ভুত পরিক্ষায় করা হয়। যা ছিল মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত করার প্রচেষ্টা। আমেরিকান ড. রোবার্ট ই কর্নিস নামে একজন বিজ্ঞানি এই কাজটি করেছিলেন। রোবার্ট মনেকরেছিলেন যেহেতু মানুষ মারা যাবার পরে তাদের শরীরে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তাই কোন ভাবে যদি মানুষের শরীরে রক্ত চলাচল আবারো স্বাভাবিক করা যায় তাহলে হয়তো মানুষকে আবারো পুনরায় জীবিত করা সম্ভব। ড. রোবার্ট মৃত ব্যাক্তির শরীরে রক্ত চলাচলের জন্য এড্রেলানিন নামে একটি ইঞ্জেকশন কিছু মৃত ব্যাক্তির শরীরে পুষ করেন। যার ফলে মৃত ব্যাক্তির শরীরে রক্ত চলাচল করতে শুরু করে।

বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা
বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা / মৃত মানুষকে জীবিত করার চেষ্টা চালানো বিজ্ঞানি ড. রোবার্ট ই কর্নিস।

এর পরে সেই ব্যাক্তিকে একটি লম্বা বিছানায় রেখে উপর নিচ করে ঝাকানো হয়। যাতে করে মৃত ব্যাক্তির শরীরে রক্ত চলাচল আরো সহজ এবং স্বাভাবিক হয়। যদিও এত কিছুর পরেও সেই মৃত ব্যাক্তিগুলকে তারা জীবিত করতে পারেনি।

পরে অবশ্য এই একই পরিক্ষা পাঁচটি কুকুরের উপরে প্রয়োগ করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে সেই পাঁচটি কুকর থেকে ড. রোবার্ট দুটি কুকুরকে জীবিত করতেও সক্ষম হয়েছিলেন সে সময়। কিন্তু আমেরিকার সরকার চায়নি এই পরিক্ষায় আর সামনের দিকে অগ্রসর হোক তাই তারা এই পরিক্ষার উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

কিছুটা একই ধরনের একটি এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছিল রাশিয়াতে। ১৯৪০ সালে ততকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞানিরা একটি কুকুরের আলাদা মাথাকে কৃত্তিম ভাবে জিবিত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তারা সেই কুকুরটির শরীর থেকে তার মাথা আলাদা করে, সেই মাথার সাথে বিভিন্ন রক্ত নালীকে ছোট ছোট নলের সাথে যুক্ত করে,  একটি মেশিনের মাধ্যমে তার মাথার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন।

বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা
বিজ্ঞান জগতে সবচাইতে অদ্ভুত কিছু পরিক্ষা / মাথা কাটা কুকুরকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা ।

যদিও এর পরে সেই কুকুরের চোখ, জিব্বা এবং অন্যান অঙ্গকে নারাতে দেখাযায় কিন্তু তা জীবিত একটি কুকুরের মত স্বাভাবিক না থাকায়। এই এক্সপেরিমেন্টকেও বন্ধ করে দেয়া হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয়ের এক্সপেরিমেন্ট –

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারকে জয়লাভ করিয়ে দেবার জন্য জার্মান বিজ্ঞানিরা বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন। যাদের মধ্যে একজন বিজ্ঞানি ছিলেন জোসেফ মেঙ্গালে। যাকে তখন এঞ্জেল অফ ডেথ নামে ডাকতেন সকলে।


এই জোসেফ হিটলারের জয় লাভের জন্য জমজ মানুষ বৃদ্ধি। মানুষের ভেতরে পয়জন ধুকানো। লোকজনকে বরফের মধ্যে আটকে রাখা। শরীরের গ্রোথ অধিক হারে বৃদ্ধি করা সহ লিঙ্গ পরিবর্তনের এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন সে সময়ে।

No comments

Powered by Blogger.