সময়ের সাথে আমরা মানুষরা উন্নত প্রযুক্তির এমন এক মুহুর্তে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে বিজ্ঞানের সাহায্যে আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এখন আমাদের মনে হয় যে, বিজ্ঞানের কাছে আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর আছে।
কিন্তু আসল কথা হল, আমাদের পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে বা ঘটছে যার কোন জবাব বিজ্ঞানের কাছে নাই। আর তাই আজ আপনাদের কে বর্ননা করবো আপনাদের বিশ্বের এমন ৫টি অদ্ভুত ঘটনা যেগুলোর সমাধান বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি। তাহলে চলুন যেনে নেয়া যাক সেই বিশ্বের ৫টি অদ্ভুত ঘটনা সমম্পর্কে –
১। গুয়াতিমালা সিঙ্কহোল
সিঙ্কহোল আমাদের পৃথিবীর জন্য একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিছু কিছু সিঙ্কহোল তো মানুষ তৈরি করেছে। প্রাকৃতিক সিঙ্কহোল স্বাভাবিকেভাবে ৩ ফুট চওরা আর ১৮ ফুট গভীর হয়ে থাকে। এখন আমি আপনাদের জানাবা গুয়াতেমালার এক ভয়ংকর ঘটনা সম্পর্কে। ২০১০ সালের ঘটনা, যখন গুয়াতেমালা শহরে হঠাত ৩০০ ফুট গভীর, ৬৫ ফুট চওরা সিঙ্কহোল তৈরি হয়েছিল। যদিও গুয়াতেমালায় সিঙ্কহোলের ঘটনা একটা স্বাবাভিক ব্যাপার।
কিন্তু এ সিঙ্কহোল অনেক চওড়া ছিল। আর এটি ৩ তলা বিশিষ্ট এক বিল্ডিংকেও গ্রাস করেছিল। ঘটনার সময় বিল্ডিং এ শুধু একজন ওয়াচ ম্যান ছিল। আর সে এ ঘটনার সময় মাটির ধ্বসে মারা গিয়েছিল। এ ঘটনা কেন আর কিভাবে হল, তার সন্তুষ্টিজনক জবাব এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান দিতে পারেনি। সিঙ্কহোল হওয়ার কিছুদিন পর সেখানকার সরকার সিমেন্ট, মাটি, লাইম স্টোম দিয়ে সে গর্তকে ভরাট করে দিয়েছিল। যাতে ভবিষতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।.
২। ফায়ার সার্কেল নামিবিয়া
নামিবিয়ার মরুভূমিতে এরিড গ্রাস ল্যান্ড নামে সাউদার্ণ আফ্রিকাই দু হাজার কিলোমিটার লম্বা একটি জায়গা আছে। এ জায়গার অনেক রহস্য আর ইররেগুলারিটি মজুদ আছে। এখানে বেলবিট চিয়া নামের এক উদ্ভিদ জন্মায়। এ শুষ্ক জায়গায় এ উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পানি কোথা থেকে আসে তা কেউ জানে না। এ জায়গার সবচেয়ে বড় রহস্য হল এখানের ফেরি সার্কেল। লাখ লাখ ফেরি সার্কেল পারফেক্ট রাউন্ড সার্কুলার অবস্থায় এখানে অনেক জায়গায় উপস্থিত আছে। এ টুকরোর ডায়ামিটার ২ থেকে ১৫ মিটার।
ফায়ার সার্কেল নামিবিয়া
পুরো ২৫০০ কিলোমিটার জুরে ফেরি সার্কেলে ভরে আছে। তাও আবার জ্যিউমেট্রিক প্যার্টানে। দেখতে মনে হয় কোন মানুষ তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবে এটা একেবারে ন্যাচরাল। বিখ্যাত জিউলোজিস্ট প্রেমরত বলেন যে, এ ফেরি সার্কেল এখনও রহস্য। আর এটা কখন আর কিভাবে তৈরি হয়েছিল তার উত্তর এ মূহুর্তে কারো কাছে নেই।
৩। ডোর টু হেল তুর্কিমিনিস্তান
১৯৭১ সালের কথা। যখন সোভিয়েত জিওলজিস্ট কারাকোম্ব মরুভূমিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান করছিলেন। প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধানে তিনি ড্রিল করছিলেন। আর শেষমেষ উনি গ্যাস খুজেই পেয়েছিলেন। কিন্তু ড্রিল করার সময় ঐ ড্রিল মেশিন গ্যাসের উপরের পাথরের সাথে ধ্বাক্কা খেল। আর সে জাইয়গা পুরোপুরীভাবে ধেবে গেল। আর সেখানে কর্মরত কিছু জিওলোজিস্টও সে গর্তে পড়ে গেল। পরে সে গর্তে আগুনের উৎপত্তি ঘটে। যার ফলে সেখানের গর্তে পড়ে যাওয়া জিওলোজিস্ট মারা যায় আর তাদের লাশও খুজে পাওয়া যায়নি।
ডোরটু হেল তুর্কিমিনিস্তান
ধেবে যাওয়ার পর সে জায়গা ৯ মিটার চওড়া আর ৩০ মিটার লম্বা গর্তে পরিণত হয়েছিল যেখানে আগুন জ্বলে। আর সে আগুন এখনও পর্যন্ত জ্বলছে। কারণ সে গর্তেঅনেক মিথেন গ্যাস আছে। যা ৪৮ বছর জ্বলার পরও শেষ হয়নি।দেখতে তা অনেকটাদোযকের দরজার মত। যা রাতের বেলাও অনেক ভয়ংকর দেখায়। দেরওয়েজ শহরের তাপমাত্রাও এর কারণে অনেক বেশী। আজকের সময়ে এ জায়গা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণতহয়েছে। আর পৃথিবীর অনেক জায়গা থেকে লোকজন এ অদ্ভুদ দৃশ্যকে দেখার জন্য এখানেভীড় জমায়। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, এ আগুন কতদিন জ্বলবে তার সম্পর্কে কেউ বলতে পারবেনা।
৪। পিঙ্কলেক হিলার অস্ট্রেলিয়া
পিঙ্ক লেক কে লেক হিলিয়ারও বলা হয়। এ লেক ওয়েস্টান অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত। এ লেকের পানি গোলাপী রঙের। আর এ কারনেই এই লেককে জনপ্রিয় হয়েছে । এটা একটি লবণাক্ত লেক। যা ৬০০ মিটার লম্বা, ২৫০ মিটার চওড়া। এ লেকের গোলাপী রঙ ঐ লেকে উপস্থিত বিশেষ ধরণের এলগিগির কারণে। কিন্ত এটার ভাইব্রেন্ট কালার একেবারে পারমেনান্ট। আর এটা কোন রিফলেকশন বা ফিনোমেননের কারণে নয়।
পিঙ্কলেক হিলার অস্ট্রেলিয়া
যদি আপনি এ পানি কোন কন্টেনারেও নেন তখনও তার রঙ ভাইব্রেইটই থাকবে। কথিত আছে এ লেককে ম্যাথু ফ্লিন্ডার নামের এক ব্যক্তি বানিয়েছিল। আর এ লেকের পানি কোন যাদুর মাধ্যমে গোলাপি করে দিয়েছিল। কিন্তু এ কথার কোন গ্যারান্টি নেয় যে, এ পানি জাদুর কারণে পরিবর্তন হয়েছিল কিনা। বিজ্ঞানীরা আজও তার উত্তর জানার পিছনে ছুটছে।
৫। টাওস হুম
১৯৯০ সালে নিউ ম্যাক্সিকোর টাউস নামের গ্রামের লোকজন তাদের প্রসাশনের কাছে অভিযোগ করে যে তারা এখানে আচর্যজনক কিছু ঘুন ঘুন শব্দ শুনতে পায়। নিউ ম্যাক্সিকোর একজন প্রফেসর পর্যবেক্ষণের জন্য এখানের প্রত্যেকটি ঘরে সাউন্ড রেকর্ডার বসান। ঐ সাউন্ড রেকর্ডারে সাউন্ড রেকর্ড হওয়ার স্বত্তেও এখানকার প্রশানের মতে এটা শুধু এখানকার মানুষদের মনের ভুল।
টাওস হুম
মজার কথা হল এখানকার একেক জন মানুষ আলাদা আলাদা রকমের ঘুন ঘুন শব্দ শুনতে পেত। যখন বিজ্ঞান আর এখানকার প্রশাসন এর কোন উত্তর দিতে পারছিলনা। তখন মানুষ নিজের মত করে এর উত্তর খুজে নিল। তারা মনে করে মাটির নিচে এলিয়েনের ষ্টেশন রয়েছে। অথবা বড় বড় মেশিন দিয়ে মাটির নিচে কাজ করা হচ্ছে। যা সরকার তাদের কাজ থেকে লুকিয়ে রেখেছে।
No comments